‘উইশ ইউ ওয়্যার হিয়ার’ নামের ব্রিটিশ ব্যান্ড ‘পিংক ফ্লয়েডের’ আইকনিক অ্যালবামটির প্রচ্ছদ অনেকের স্মৃতিতে দাগ কেটে আছে। কারণ তাতে দেখা গেছে কেতাদুরস্ত পোশাক পরা দুই ব্যক্তি একে অপরের সঙ্গে হাত মেলাচ্ছেন। তাদের মধ্যে একজনের শরীরের পেছনের দিকে এবং হাতে আগুনে জ্বলছে দাউদাউ করে।
এই ঝুঁকিপূর্ণ দৃশ্যের স্টান্টম্যান হলেন হলিউডের রনি রনডেল জুনিয়র, যিনি মারা গেছেন চলতি মাসের ১২ তারিখে যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি রাজ্যের একটি কেয়ার হোমে।
বিবিসি লিখেছে এই স্টান্টম্যান, অভিনেতা ও প্রযোজকের বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর।প্রচ্ছদে রনডেল তার সহকর্মী স্টান্টম্যান ড্যানি রজার্সের সঙ্গে করমর্দন করছেন। আগুনের আঁচে রনডেলের ভ্রু এবং গোঁফের কিছু অংশ পুড়ে গেলেও তার মুখ ছিল ভাবলেশহীন।
রনডেল তার দীর্ঘ কর্মজীবনে বেশ কিছু চলচ্চিত্র এবং টেলিভিশন অনুষ্ঠানের প্রযোজনার সঙ্গেও জড়িত ছিলেন। সেগুলোর মধ্যে লেথাল ওয়েপন, থেলমা অ্যান্ড লুইস, স্টার ট্রেক: ফার্স্ট কনট্রাক্ট জনপ্রিয় হয়েছিল। পরিবারে স্ত্রী মেরি এবং এক ছেলে রোনাল্ডকে তিনি রেখে গেছেন।
রনডেলের জন্ম ১৯৩৭ সালে ক্যালিফোর্নিয়ায়। সিনেমায় অভিনয়ের সুযোগ মেলে ১৯৫০ সালের গোড়ার দিকে 'মা অ্যান্ড পা ক্যাটল অ্যাট দ্য ফেয়ার' দিয়ে।
পিংক ফ্লয়েডের ‘উইশ ইউ ওয়্যার হিয়ার’ অ্যালবামের জন্য ওই ছবিটি তুলেছিলেন ব্রিটিশ গ্রাফিক ডিজাইনার এবং চলচ্চিত্র পরিচালক অব্রে পাওয়েল। ২০২০ সালে দ্য গার্ডিয়ানকে পাওয়েল বলেছিলেন, "রনডেল স্টান্টটি করতে খুব একটা ইচ্ছুক ছিলেন না। কারণ এটি অ্যাকশন দৃশ্যের চেয়েও অনেক বেশি বিপজ্জনক ছিল।"
পাওয়েল বলেন, রনডেলের স্যুটটি অগ্নি প্রতিরোধক পদার্থ দিয়ে ঢাকা ছিল এবং আগুন থেকে বাঁচার জন্য শরীরের একধরেন বিশেষ জেল মেখেছিলেন তিনি।
ছবিটি তুলতে পাওয়েল ঠিক ১৪ বার ব্যর্থ হয়েছিলেন। ১৫তম প্রচেষ্টায় বাতাসের দিক পরিবর্তন করে আগুন যখন রনডেলের মুখে লাগানো হয়, তখন তার একটি ভ্রু এবং তার গোঁফের কিছু অংশ পুড়ে যায়।
স্টান্টম্যান হিসেবে রনডেলের প্রথম কাজ করা টেলিভিশন সিরিজ 'সোলজার্স অক ফরচুন' এ। এই সিরিজটি চলেছিল ১৯৫৫ থেকে ১৯৫৭ সাল পর্যন্ত।
১৯৬০ থেকে ১৯৯০ এর দশকের মধ্যে তিনি বেশ কয়েকটি টেলিভিশন সিরিজে কাজ করেছিলেন, যার মধ্যে ছিল চার্লি'স অ্যাঞ্জেলস, ডাইনেস্টি এবং বেওয়াচ; পাশাপাশি স্পার্টাকাস, ডায়মন্ডস আর ফরএভার এবং দ্য কারাতে কিডের মত সিনেমাতেও তিনি স্টান্টম্যানের কাজ করেছেন।
রনডেলের বিখ্যাত স্টান্টগুলোর মধ্যে আরেকটি ছিল উঁচু একটি খুঁটি থেকে নিচে লাফিয়ে পড়ার দৃশ্য। তিনি লাফিয়ে পড়ার সাথে সাথে যে খুঁটিতে আগুন ধরে যায়।
দৃশ্যটি ছিল ১৯৬৩ সালে মুক্তি পাওয়া অ্যাডভেঞ্চার সিনেমা 'কিংস অক দ্য সান' এর। এছাড়া ১৯৬৫ সালের সিনেমা 'শেনানডোহ' সিনেমার মারামারির দৃশ্যে, ১৯৭৪ সালে মুক্তি পাওয়া কমেডি ঘরানার 'ব্লেজিং স্যাডলস' সিনেমায় পানশালায় তুমুল মারপিটের দৃশ্যে এবং একই বছর মুক্তি পাওয়া 'দ্য টাওয়ারিং ইনফার্নো' সিনেমায় অগ্নিকাণ্ডের দৃশ্যেও তিনি স্টান্টম্যানের কাজ করে হলিউউ ইন্ডাস্ট্রিতে খ্যাতি কুড়ান।
কর্মজীবনের পরবর্তী সময়ে, তিনি 'ব্যাটম্যান অ্যান্ড রবিন' এবং 'দ্য মাইটি ডাকস'সহ আরো কিছু সিনেমায় স্টান্ট সমন্বয়কারীর দায়িত্বে ছিলেন।
১৯৭০ সালে ক্যালিফোর্নিয়ায় স্টান্ট কোম্পানি, ‘স্টান্টস আনলিমিটেডের’ তিন প্রতিষ্ঠাতার একজন ছিলেন রনডেল।
রনডেলের মৃত্যুতে ‘স্টান্টস আনলিমিটেড’ শোক প্রকাশ করে সোশাল মিডিয়ায় লিখেছে, “তিনি ছিলেন এমন একজন উদার পরামর্শদাতা, যার প্রতিভা একজন উচ্চাকাঙ্খী স্টান্ট অভিনেতার মান নির্ধারণ করে দিয়েছে। তাকে গভীরভাবে শ্রদ্ধা জানাই। এই কিংবদন্তির অভাব গভীরভাবে অনুভূত হবে।"
২০০১ সালে রনডেল অবসর নিলেও, ২০০৩ সালে ‘দ্য ম্যাট্রিক্স রিলোডেডের’ সিনেমায় তার স্টান্ট কৃতীত্ব মনে রেখেছে দর্শক।
২০০৪ সালে ‘টরাস ওয়ার্ল্ড স্টান্ট অ্যাওয়ার্ডস’ এ তাকে আজীবন সম্মাননা দেওয়া হয়।
রনডেল পরিবারের একমাত্র অভিনেতা ছিলেন না। তার বাবা রোনাল্ড আর রনডেলও ছিলেন অভিনেতা এবং সহকারী পরিচালক।
রনডেলের দুই ছেলেও সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করেছেন। যাদের একজন, রিড ১৯৮৫ সালে টিভি সিরিজ এয়ারওল্ফের জন্য হেলিকপ্টারে স্টান্ট দৃশ্যে কাজ করার সময় মারা যান।
মেহেরপুরে সিসা দূষণ প্রতিরোধ সপ্তাহে নানা আয়োজন
তিন হাজারের বেশি কোর্স নিয়ে এল ‘গুগল স্কিলস’
খুলনার তেরখাদায় শাহ কামাল তাজের পক্ষে বিএনপির প্রোগ্রাম
তেরখাদা উপজেলার আটলিয়াতে বিএনপির বৃক্ষরোপণ
সাতক্ষীরায় নবাগত সহকারী পুলিশ সুপার যোগদান
১১ বোতল মদসহ নয় লক্ষ টাকার ভারতীয় মালামাল আটক
জমি নিয়ে গায়ের জোরে সিমানা নির্ধারণ,আহত ২
অতি লোভে তাতি নষ্ট।
তেরখাদা উপজেলায় অনুষ্ঠিত হল বিএনপির সাংগঠনিক কর্মসূচি
সেনা অভিযানে বিপুলপরিমাণ ভারতীয় ঔষধ ও বিড়ি উদ্ধার
মেহেরপুরে পুরোদমে চলছে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি
অজ্ঞাতনামা নারীর সন্তান প্রসব!
ঘুষের টাকা না দেওয়াই বিদ্যালয় প্রবেশে বাধা