বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৬:০২ পি.এম
১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৩ সফর ১৪৪৮ হিজরি
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিঃ সারাদেশব্যাপী কালের যাত্রা পত্রিকায় প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহীরা অভিজ্ঞতা ও জীবনবৃত্তান্ত অফিসিয়াল ঠিকানায় ইমেইল করুন।
ঋতুপর্ণাদের ম্যাচ ফি, পুরস্কার কিছুই দিচ্ছে না বাফুফে টাকার জন্য বাফুফে ভবনের চতুর্থ তলা থেকে তৃতীয় তলায় নেমে অনুরোধ করেও কোনো ফল মেলেনি। abc

মাঠে একের পর এক গৌরবের কাব্য লিখছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। দক্ষিণ এশিয়ায় টানা দুবার সেরা। প্রথমবারের মতো এশিয়ান কাপে জায়গা করে ইতিহাস গড়েছে। কিন্তু এমন সোনালি সাফল্যের আড়ালেই কিনা লুকিয়ে আছে তিক্ত বাস্তবতা! মাঠে জয়, ট্রফি, করতালি মিললেও মাঠের বাইরে জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের প্রাপ্য আটকে থাকে ফাইলের নিচে। ম্যাচ ফি, বেতন, পুরস্কার—সব ক্ষেত্রেই চলছে দীর্ঘসূত্রতা।

২০২৪ সালের জুনে চায়নিজ তাইপের বিপক্ষে ঢাকায় দুটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। জুলাইয়ে ভুটানের থিম্পুতে খেলেছে আরও দুটি প্রীতি ম্যাচ। এ বছর মার্চে আরব আমিরাতে দুটি, জুনে জর্ডানে দুটি ও জুলাইয়ে মিয়ানমারে খেলেছে তিনটি ম্যাচ। সব মিলিয়ে ১১টি ম্যাচের ম্যাচ ফি এখনো পাননি বলে জাতীয় দলের একাধিক খেলোয়াড় প্রথম আলোর কাছে অভিযোগ করেছেন। অথচ টাকার অঙ্কটা খুব বড় নয়। মেয়েদের জাতীয় দলের আন্তর্জাতিক ম্যাচে এক মিনিটের জন্যও কেউ মাঠে নামলে পান ১০ হাজার টাকা। ম্যাচ না খেলা খেলোয়াড়দের জন্য বরাদ্দ ৫ হাজার টাকা।
সামান্য এই টাকাও সময়মতো না পেয়ে জাতীয় দলের এক শীর্ষ ফুটবলারের তীব্র ক্ষোভ, ‘গত বছর সাফে খেলা ৪ ম্যাচের ফি পেয়েছি ৪০ হাজার টাকা। সাফের আগে তাইপে আর ভুটান, এ বছর জর্ডান ও মিয়ানমারে খেলেছি। আমার মোট ৯ ম্যাচের ফি বাকি। এই টাকার জন্য কতবার বাফুফে ভবনের চতুর্থ তলা থেকে তৃতীয় তলায় নেমে অনুরোধ করেছি, কিন্তু কোনো ফল মেলেনি। ’

ছাদ খোলা বাসে টানা দ্বিতীয়বার সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ী বাংলাদেশ দল

মনিকা, ঋতুপর্ণা, সাবিনারা এখন ভুটান লিগে খেলছেন। চুক্তি অনুয়ায়ী এ সময়ে তাঁরা বাফুফে থেকে বেতন পাবেন না। কোচের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা খেলোয়াড়দের বড় একটা অংশের সঙ্গে মে মাসে চুক্তি করে বাফুফে। চুক্তির আগপর্যন্ত কয়েক মাস তাঁরাও ছিলেন বেতনহীন। ভুটানে খেলতে যাওয়া আরেক শীর্ষ খেলোয়াড় জানান, তাঁরও ৩৫ দিনের বেতন বাকি।
ফেব্রুয়ারিতে একুশে পদক পেয়েছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। সরকারের পক্ষ থেকে তখন দলকে আর্থিক পুরস্কারও দেওয়া হয়েছিল। সেই টাকা এখনো না পেয়ে এক খেলোয়াড়ের দুঃখ, ‘শুনেছি, সরকার তখন নারী দলকে চার লাখ টাকা দিয়েছে। হিসাব করে দেখেছি, খেলোয়াড়ের জনপ্রতি প্রাপ্য ১২ হাজার টাকা। কিন্তু এত মাস পরও সেই টাকা মেলেনি। টাকার পরিমাণ বড় বিষয় নয়, না দেওয়ার মানসিকতাটাই কষ্টের।’
সাফ শিরোপা জয়ের ৯ মাস পার হলেও বাফুফের ঘোষণা অনুযায়ী দেড় কোটি টাকার পুরস্কার এখনো পাননি মেয়েরা। শিরোপা জয়ের পর গত ৯ নভেম্বর বাফুফের নতুন কমিটির প্রথম সভায় এ পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্ত হলেও বাস্তবে কিছুই হয়নি। খেলোয়াড়দের প্রশ্ন, ‘টাকাই যখন দেবেন না, তখন ঘোষণার কী প্রয়োজন ছিল?’ সাফ জয়ের পর মেয়েরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে লিখিতভাবে নিজেদের সমস্যাগুলো জানিয়েছিলেন, কিন্তু সেসব ব্যাপারে কোনো অগ্রগতি আছে কি না, তাঁরা জানেন না সেটাও।

এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্বে ওঠা দল মিয়ানমার থেকে ফিরেছে জুলাইয়ে। রাত তিনটায় হাতিরঝিলে ফুটবলারদের সংবর্ধনা দেওয়া হলেও কোনো অর্থিক পুরস্কার দেওয়া হয়নি। যা নিয়ে ক্ষুব্ধ এক খেলোয়াড়ের মন্তব্য,‘মঞ্চ বানানো, খেলোয়াড়দের কাটআউট বানানো—এসব না করে বরং মেয়েদেরই টাকাটা দিতে পারত।’
বাংলাদেশে এখনো নিয়মিত হয় না মেয়েদের ফুটবল লিগ। ১২-১৩ জন নারী ফুটবলার লিগ খেলছেন ভুটানে। ভুটানের খেলোয়াড়েরা বাংলাদেশের মেয়েদের অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করেন, ‘এত ভালো খেলার পরও তোমাদের দেশে কেন লিগ নেই!’ শুনে বাংলাদেশের মেয়েরা লজ্জা পান। এক খেলোয়াড় বলেছেন, ‘ভুটানের মেয়েরা সবই সময়মতো পায়। আর আমরা মাসের পর মাস অপেক্ষায় থাকি।’

এই বিভাগের আরও খবর
পাঠকের মন্তব্য
  • এখনো কোনো মন্তব্য নেই।
মন্তব্য করুন
সর্বশেষ খবর
Make Your Business Digital
10%
OFF
Domain only
1650 TK
5GB NVME Hosting
2500 TK
High Speed Website with High Security
Call : 01631101031
SPACE FOR ADD
200 x 350
SPACE FOR ADD
200 x 350